ফুটবল
বলটি তাঁর পায়ে: মেসিকে নিয়ে একটি ধারাভাষ্য-কবিতা
বিডি সাইট নিউজ ডেস্ক·১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬·2 মিনিটের পড়া

আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসি
ছবি: Bryan Berlin, CC BY-SA 4.0 — Wikimedia Commonsএটি সংবাদ প্রতিবেদন নয়। ইংরেজ ধারাভাষ্যকার পিটার ড্রুরির ঢঙে লেখা একটি শ্রদ্ধাঞ্জলি — লিওনেল মেসির জন্য, বাংলায়।
এক · প্রথম স্পর্শ
বলটি তাঁর পায়ে।
আর সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর ঘড়িগুলো একটু ধীরে চলতে শুরু করে।
মাঠে আটাশজন মানুষ ছুটছেন — হাঁপাচ্ছেন, চিৎকার করছেন, ঘামছেন। আর একজন হাঁটছেন। শুধু হাঁটছেন। মাথা নিচু, কাঁধ ঝুঁকে, যেন কারও সঙ্গে তাঁর কোনো তাড়া নেই।
কিন্তু ওই নিচু মাথার ভেতরে এই মুহূর্তে গোটা একটি মানচিত্র আঁকা হয়ে যাচ্ছে। বাঁয়ে দুজন, ডানে তিনজন, সামনে একটি ফাঁক — যে ফাঁকটি এখনো তৈরি হয়নি, কিন্তু তিন সেকেন্ড পর হবে।
তিনি জানেন। শুধু তিনিই জানেন।
দুই · আঠারো বছরের ছেলেটি
দুই হাজার ছয়। বুদাপেস্ট। একটি রোগা ছেলে নামছে মাঠে।
সাতচল্লিশ সেকেন্ড।
তারপর লাল কার্ড, আর একটি ছেলে মাঠ ছাড়ছে চোখ মুছতে মুছতে।
ওহ, সেই কান্না! কে জানত, ওই নোনা জলে ভিজেই লেখা শুরু হচ্ছে একটি মহাকাব্যের প্রথম অক্ষর?
তিন · দীর্ঘ শাস্তি
তারপর এলো বছরগুলো। নিষ্ঠুর, একঘেয়ে, পুনরাবৃত্ত।
দুই হাজার চোদ্দো — ট্রফিটি দাঁড়িয়ে, আর তিনি হেঁটে যাচ্ছেন তার পাশ দিয়ে। তাকিয়ে। শুধু তাকিয়ে। এত কাছে যে হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায়, আর এত দূরে যে গোটা জীবন লেগে যায়।
পনেরো — হার। ষোলো — আবার হার। পেনাল্টি আকাশে।
একটি দেশ তখন তাঁকে ভালোবাসত। কিন্তু বিশ্বাস করত না। আর ভালোবাসা যখন বিশ্বাসহীন হয়, সেটি ভালোবাসা থাকে না — সেটি হয়ে ওঠে দাবি।
চার · মারাকানা
দুই হাজার একুশ। রিও দে জেনেইরো।
ব্রাজিলের মাঠ। ব্রাজিলের দর্শক। ব্রাজিলের বুকের ঠিক ওপরে দাঁড়িয়ে।
এবং হ্যাঁ — শেষ বাঁশি!
আটাশ বছরের খরা ভেঙে পড়ছে এক মুহূর্তে! তিনি হাঁটু গেড়ে বসছেন, তারপর শুয়ে পড়ছেন ঘাসের ওপর, দুই হাত ছড়িয়ে — যেন কেউ এইমাত্র একটি আস্ত পাহাড় নামিয়ে রাখল তাঁর কাঁধ থেকে।
পাঁচ · লুসাইল
রাত। কাতার। আঠারোই ডিসেম্বর, দুই হাজার বাইশ।
ফুটবল সেদিন নিজের সেরা পোশাকটি পরে এসেছিল। তিন গোল, তিন গোল, টাইব্রেকার, আর একটি গোটা গ্রহ শ্বাস আটকে বসে আছে।
মন্তিয়েল এগোচ্ছেন… শট… এবং —
সোনালি ট্রফিটি বাড়ি ফিরছে!
ছত্রিশ বছর, লিও! ছত্রিশটি বছর ধরে একটি দেশ অপেক্ষা করেছে এই ছবিটির জন্য — আর আজ আপনি সেটি তুলে ধরলেন সেই আকাশের দিকে, যেখানে দিয়েগো বসে আছেন।
ছয় · বিদায়
আর এখন, একুশ বছর পর, তিনি হাঁটছেন।
মাঠের দিকে নয়। মাঠ থেকে দূরে।
কোনো বাঁশি নেই, কোনো গ্যালারি নেই, কোনো শেষ ম্যাচ নেই। শুধু একটি সোমবার, আর একটি বাক্য।
জার্সিটি হ্যাঙ্গারে ঝুলছে। দশ নম্বর। আকাশি আর সাদা।
কেউ একদিন সেটি পরবেন। কাঁধ দুটো হয়তো ঠিক মাপেরই হবে।
কিন্তু জার্সির মাপ আর জার্সির ওজন — এক জিনিস নয়।
ধন্যবাদ, লিও।
বলটি আপনার পায়ে গেলে আমরা একটু ভালো মানুষ হয়ে উঠতাম। একটু বেশি বিশ্বাস করতাম যে সুন্দর কিছু এখনো সম্ভব।
আর কখনো কি বলটি ওভাবে কারও পায়ে যাবে?
আমরা জানি না।
আমরা শুধু জানি, আমরা দেখেছি।
বিডি সাইট নিউজ · শ্রদ্ধাঞ্জলি

