ফুটবল
১০ নম্বর জার্সিটি এখন খালি: মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনা কোথায় দাঁড়িয়ে
বিডি সাইট নিউজ ডেস্ক·১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬·3 মিনিটের পড়া

আর্জেন্টিনার ভবিষ্যতের অন্যতম ভরসা এনজো ফের্নান্দেজ
ছবি: Bryan Berlin, CC BY-SA 4.0 — Wikimedia Commonsমেসি গেলেন। ডিসেম্বরে সম্ভবত কোচ স্কালোনিও যাবেন। তবু আর্জেন্টিনার আসল সমস্যা প্রতিভার অভাব নয় — সমস্যা একটি জার্সির ওজন।
একটি জার্সি কতটা ভারী হতে পারে?
কাপড়ের ওজন কয়েক গ্রাম। কিন্তু আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা ডোরায় পিঠের ওপর যখন ১০ সংখ্যাটি বসে, তখন সেটির ওজন মাপা যায় না। কারণ ওই সংখ্যাটি আগে পরতেন একজন, যিনি ১৯৮৬ সালে একা একটি দেশকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছিলেন। তারপর পরতেন আরেকজন, যিনি ২০২২ সালে সেটিই আবার করলেন।
এখন সেটি খালি।
যা হারাল আর্জেন্টিনা
শুধু মেসি নন। কোচ লিওনেল স্কালোনির চুক্তি শেষ হচ্ছে ডিসেম্বরে, এবং তিনি ক্লাব ফুটবলে ফিরতে চান বলেই ধারণা করা হচ্ছে। যে মানুষটি ২০১৮-র ধ্বংসস্তূপ থেকে দলটিকে তুলে এনে কোপা, বিশ্বকাপ আর আরেকটি ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছিলেন, তিনিও চলে যেতে পারেন।
আর নিকোলাস ওতামেন্দি — ৩৮ বছর বয়সী সেই ডিফেন্ডার, যিনি এই দলের শেষ পুরোনো প্রহরী। তাঁর সময়ও ফুরিয়ে আসছে।
অর্থাৎ একটি প্রজন্ম নয়, একটি যুগ শেষ হচ্ছে।
যা থেকে গেল
এবং এখানেই গল্পটি বদলে যায়। কারণ ১৯৯০-এর দশকের আর্জেন্টিনা নয় এটি।
ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ২৮, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ২৮ — রক্ষণ দাঁড়িয়ে আছে। এনজো ফের্নান্দেজ ২৫, আলেক্সিস মাক আলিস্তার ২৭ — মাঝমাঠ তরুণ। জুলিয়ান আলভারেজ, যিনি কাতারে চার গোল করেছিলেন, এখনো ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে পৌঁছাননি। লাউতারো মার্তিনেজ আছেন সামনে।
২০৩০ বিশ্বকাপে এঁদের প্রায় সবাই থাকবেন — এবং সেই বিশ্বকাপের একটি অংশ আয়োজন করবে আর্জেন্টিনা নিজেই। শতবর্ষ পূর্তির টুর্নামেন্ট, ফিরছে সেখানেই যেখানে ১৯৩০-এ শুরু হয়েছিল।
নতুন নামগুলো
ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনো — রিয়াল মাদ্রিদে সদ্য যোগ দেওয়া এই তরুণ ইতিমধ্যেই একবার আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি পরেছেন। নিকো পাস, ২১, ইতালির কোমোতে একটি অসাধারণ মৌসুম কাটিয়ে এখন দলের সম্ভাব্য সৃষ্টিশীল কেন্দ্র। ভালেন্তিন বার্কো, জুলিয়ানো সিমেওনে, ক্লাউদিও এচেভেরি — তালিকাটি ছোট নয়।
প্রতিভা আছে। প্রশ্ন সেটি নিয়ে নয়।
যে বিপদটি সবচেয়ে বড়
একটি তারিখ মনে রাখা দরকার। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর, ইকুয়েডরের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব। মেসি সেই স্কোয়াডেই ছিলেন না। ১০ নম্বর জার্সিটি পরেছিলেন মাস্তানতুওনো।
আর্জেন্টিনা সেই ম্যাচ হেরেছিল।
একটি ম্যাচ দিয়ে কারও ভবিষ্যৎ বিচার করা যায় না। কিন্তু ওই ম্যাচটি একটি কথা মনে করিয়ে দেয়, যেটি আর্জেন্টিনার ফুটবল বারবার ভুলে যায়।
১৯৮৬ থেকে ২০২২ — এই ৩৬ বছরে আর্জেন্টিনা কোনো বিশ্বকাপ জেতেনি। এই সময়ে তারা একের পর এক তরুণকে ডেকে বলেছে, ‘তুমিই নতুন ম্যারাডোনা’। ওর্তেগা, আইমার, সাভিওলা, দ্য আলেসান্দ্রো, রিকেলমে — প্রত্যেকেই প্রতিভাবান, প্রত্যেকেই ওই তুলনার ভারে নুয়ে পড়া।
মেসিকেও বলা হয়েছিল। তিনি সহ্য করেছেন, কারণ তিনি মেসি। কিন্তু তাঁর জন্যও লেগেছিল ১৭ বছর আর তিনটি হারা ফাইনাল।
তাহলে সামনে কী
আর্জেন্টিনার সামনে দুটি রাস্তা। প্রথমটি চেনা: একটি ছেলেকে বেছে নেওয়া, তার পিঠে ১০ নম্বর চাপিয়ে দেওয়া, তারপর অপেক্ষা করা কখন সে ভেঙে পড়ে।
দ্বিতীয়টি কঠিন, কিন্তু বুদ্ধিমানের: মেনে নেওয়া যে কেউ মেসি হবে না। হওয়ার দরকারও নেই। এনজো-মাক আলিস্তার-রোমেরোদের একটি দল আছে, যারা মেসিকে ছাড়াও ম্যাচ জিততে শিখেছিল শেষ কয়েক বছরে। ২০৩০ পর্যন্ত সময় আছে চার বছর।
সবচেয়ে ভালো খবরটি হয়তো এটাই — স্কালোনির আর্জেন্টিনা কখনো একজনের দল ছিল না। সেটি ছিল একটি ব্যবস্থা, যেখানে মেসি ছিলেন সবচেয়ে বড় অংশ, কিন্তু একমাত্র অংশ নন। ব্যবস্থাটি টিকে থাকলে দলটিও টিকবে।
১০ নম্বর জার্সিটি আপাতত খালি থাক। কেউ একজন একদিন সেটি পরবেন, এবং তিনি ম্যারাডোনাও হবেন না, মেসিও হবেন না।
তিনি হবেন নিজে। আর আর্জেন্টিনার জন্য সেটিই যথেষ্ট হওয়া উচিত।
প্রেক্ষাপট — এর পেছনে যা ঘটেছিল
স্কালোনির চুক্তি শেষ হচ্ছে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে।
২০৩০ বিশ্বকাপের আংশিক আয়োজক আর্জেন্টিনা — টুর্নামেন্টের শতবর্ষ।
মূল স্কোয়াডের গড় বয়স ২০৩০-এ পূর্ণ সামর্থ্যে থাকার মতো: রোমেরো ও লিসান্দ্রো ২৮, মাক আলিস্তার ২৭, এনজো ২৫।
মাস্তানতুওনো ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ১০ নম্বর জার্সি পরেছিলেন।
সূত্র: বুয়েনস আইরেস টাইমস, ফোর্বস, অলিম্পিকস ডটকম

