খেলাধুলা
মেসি কেন ম্যাচের বেশির ভাগ সময় হাঁটেন? পরিসংখ্যান আর বিজ্ঞান যা বলছে
বিডি সাইট নিউজ ডেস্ক · ১৬ জুলাই, ২০২৬

মাঠের সবচেয়ে ধীর মানুষটিই কীভাবে সবচেয়ে বিপজ্জনক? ফিফার ট্র্যাকিং ডেটা বলছে, ম্যাচে মেসির অতিক্রম করা দূরত্বের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই হাঁটার গতিতে — অথচ গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনিই সবার ওপরে।
সংখ্যাগুলো চমকে দেওয়ার মতো। বিশ্বকাপে ফিফার ট্র্যাকিং ডেটা বিশ্লেষণ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি জানিয়েছিল, মেসির অতিক্রম করা মোট দূরত্বের প্রায় ৬৪ শতাংশই হাঁটার গতিতে। ম্যাচপ্রতি তাঁর গড় দূরত্ব ছিল প্রায় ৮ কিলোমিটার — পুরো ৯০ মিনিট খেলা আউটফিল্ড খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে কম। একই পজিশনের অন্য খেলোয়াড়রা যেখানে গড়ে প্রায় সাড়ে ১০ কিলোমিটার দৌড়ান।
তাহলে রহস্যটা কী? উত্তরের একটা বড় অংশ লুকিয়ে 'স্ক্যানিং'-এ। নরওয়েজিয়ান স্কুল অব স্পোর্ট সায়েন্সেসের অধ্যাপক গেইর ইয়র্দেতের গবেষণা দল হাজার হাজার বল-পজেশন বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছে — মেসি 'মাইক্রো-স্ক্যানিংয়ের মাস্টার'। ছোট ছোট, প্রায় চোখে পড়ে না এমন ঘাড়ের মুভমেন্টে তিনি অনবরত চারপাশ পড়ে নেন। প্রতিপক্ষের প্রবল চাপেও তাঁর এই স্ক্যানিং কমে না; বরং অন্যদের চেয়ে দ্রুত — সেকেন্ডের ভগ্নাংশ আগেই তিনি দেখে ফেলেন বল কোথায় যাচ্ছে।
অর্থাৎ মেসির হাঁটা মানে বিশ্রাম নয় — মানচিত্র আঁকা। হেঁটে হেঁটে তিনি ডিফেন্ডারদের অবস্থান, ফাঁকা জায়গা আর আক্রমণের পথ পড়ে নেন; দাবার গ্র্যান্ডমাস্টারের মতো চাল সাজান। এনবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মেসি-এমবাপ্পের মতো তারকারা জানেন ঠিক কোন মুহূর্তে শক্তি খরচ করতে হবে — রক্ষণের কাজ সতীর্থদের ছেড়ে দিয়ে তাঁরা জ্বলে ওঠেন সেই কয়েক সেকেন্ডে, যা ম্যাচ বদলে দেয়।
এই কৌশলেরই সবচেয়ে বড় প্রমাণ সম্ভবত চলতি বিশ্বকাপ। ৩৯ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে শেষ ১০ মিনিটে জোড়া অ্যাসিস্ট — ৮৫ মিনিট পর্যন্ত শক্তি জমিয়ে রেখে ঠিক প্রয়োজনের মুহূর্তে আঘাত। শক্তি নয়, হিসাব; গতি নয়, মস্তিষ্ক — এটাই মেসির দীর্ঘায়ুর সূত্র।
রোববার (১৯ জুলাই) স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে তাই বল ছাড়া হেঁটে বেড়ানো ১০ নম্বর জার্সিটির দিক থেকে চোখ সরাবেন না। ওই হাঁটাই হয়তো লিখে দেবে বিশ্বকাপের ভাগ্য।