খেলা
তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনেই ম্যাচ: বাংলাদেশের পরিকল্পনা কী হওয়া উচিত
বিডি সাইট নিউজ ডেস্ক·১৫ আগস্ট, ২০২৬·4 মিনিটের পড়া

১৫৩ রানের লিড, হাতে ৪ উইকেট, ক্রিজে মিরাজ। ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনটিই ঠিক করে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য। কী করলে জয়, কোথায় ঝুঁকি — বিস্তারিত বিশ্লেষণ।
দ্বিতীয় দিন শেষে অবস্থানটি এমন: অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ১৯৮, বাংলাদেশ ১১০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৫১। লিড ১৫৩। ক্রিজে মেহেদী হাসান মিরাজ ৩২ রানে (৭৩ বল) এবং হাসান মাহমুদ ১৩ রানে (৭৬ বল)। সপ্তম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন জুটি ৪৩ রানের, খরচ হয়েছে ১৪৭ বল।
এই ১৪৭ বলের হিসাবটিই তৃতীয় দিনের চাবিকাঠি। শেষ ১০ ওভারে উঠেছে মাত্র ১৫ রান, উইকেট পড়েনি একটিও। অর্থাৎ দিনের শেষভাগে বাংলাদেশ সচেতনভাবেই খোলস বন্ধ করেছে। প্রশ্ন হলো, সকালে খোলসটা কখন খুলবে।
প্রথম সেশনের লক্ষ্য কী হওয়া উচিত
সহজ উত্তর: প্রথম ঘণ্টায় উইকেট না হারানো। ডারউইনের সকালে বল কিছুটা নড়ে, আর প্যাট কামিন্স-মিচেল স্টার্ক-জশ হ্যাজলউড প্রথম স্পেলটি দেবেন পুরো শক্তি দিয়ে। ওই ৮-১০ ওভার পার করতে পারলে অস্ট্রেলিয়ার হাতে নতুন অস্ত্র কম।
সংখ্যার লক্ষ্যটা হওয়া উচিত ২২০ থেকে ২৫০ রানের লিড। ৩৫১ থেকে আর ৭০-৯০ রান যোগ করতে পারলেই সেটি হয়ে যায়। মিরাজ যদি একাই ৭০-৮০ পর্যন্ত যান, ম্যাচ কার্যত বাংলাদেশের হাতে চলে আসে।
মিরাজ-সমীকরণ
মিরাজের ভূমিকাটি দ্বৈত। তিনি এই ইনিংসের শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান, আবার চতুর্থ ইনিংসে তিনিই প্রধান স্পিন-অস্ত্রদের একজন। তাই তাঁর ব্যাটিংয়ে ভারসাম্য দরকার — ঝুঁকি নয়, কিন্তু স্ট্রাইক রোটেট করে বোলারদের ক্লান্ত করা। হাসান মাহমুদ ৭৬ বলে ১৩ রান করে যে কাজটি করছেন, সেটির মূল্য স্কোরবোর্ডে দেখা যায় না; দেখা যায় বোলারদের পায়ে।
একটি সতর্কতা: লেজের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে বেশি রক্ষণাত্মক হয়ে স্ট্রাইক আগলে রাখলে রান তোলার গতি এতটাই কমে যেতে পারে যে সময় নষ্ট হয়। পাঁচ দিনের ম্যাচে এখনো আড়াই দিন বাকি, তাই সময় সমস্যা নয় — কিন্তু ২০ উইকেট নিতে হলে বোলিংয়ের জন্য যথেষ্ট ওভার হাতে রাখতে হবে।
ঘোষণা না অলআউট
ইনিংস ঘোষণার তাড়া নেই। ২৫০ রানের লিড হয়ে গেলে ব্যাটিং টেনে নেওয়ার যুক্তি কমে যায়, তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোনো লিডই যথেষ্ট বড় মনে করা ঠিক নয়। বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা — অলআউট হওয়া পর্যন্ত খেলা, অথবা লিড ২৮০ ছাড়ালে ঘোষণা।
বোলিং পরিকল্পনা
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে গুটিয়ে গেছে — উইকেটে সাহায্য আছে, সেটি প্রমাণিত। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের পরিকল্পনা হওয়া উচিত তিন স্তরে। নতুন বলে তাসকিন-হাসান মাহমুদের ফুল লেংথ, যাতে বল সুইং করার সুযোগ পায়। এরপর তাইজুল ইসলামকে রাফের দিকে লাগাতার বল করানো। আর মিরাজকে রাখা সেট ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে, বিশেষ করে বাঁহাতিদের জন্য।
স্টিভেন স্মিথের উইকেটটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি একবার সেট হয়ে গেলে সেশনের পর সেশন ব্যাট করতে পারেন, আর এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং তাঁর ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। নতুন বলে তাঁকে চতুর্থ-পঞ্চম স্টাম্পে টানা বল করা ছাড়া বিকল্প নেই।
অস্ট্রেলিয়া কীভাবে ফিরতে পারে
একটি লক্ষণ উপেক্ষা করা যায় না — দ্বিতীয় দিনের শেষভাগে মার্নাস লাবুশেনকে ৪ ওভার বল করতে হয়েছে (৪-১-৪-০)। মূল বোলাররা ক্লান্ত, এবং নাথান লায়নের বিশ্লেষণ ২৫-১-৯২-১। তবু অস্ট্রেলিয়ার ফেরার পথ একটাই: সকালে দ্রুত ৪ উইকেট তুলে বাংলাদেশের লিড ১৮০-এর নিচে আটকে রাখা, তারপর দ্বিতীয় ইনিংসে বড় জুটি।
ফল কী হতে পারে
ক্রিকবাজের ম্যাচ-প্রেডিক্টর দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখছে ৭৭ শতাংশে, অস্ট্রেলিয়াকে ২৩ শতাংশে। এটি নিছক একটি মডেলের হিসাব, ভবিষ্যদ্বাণী নয়। বাস্তব সম্ভাবনাগুলো এমন:
বাংলাদেশের জয় — সবচেয়ে সম্ভাব্য। শর্ত: প্রথম সেশনে লিড ২২০ পার করা এবং চতুর্থ ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ২৫০-এর বেশি তাড়া করতে বাধ্য করা। ডারউইনের উইকেট যত পুরোনো হবে, তাইজুল-মিরাজ তত বিপজ্জনক।
ড্র — বাস্তব সম্ভাবনা, তবে বৃষ্টির কারণে নয়। ডারউইনে এখন শুষ্ক মৌসুম, বৃষ্টির আশঙ্কা কম। ড্র হতে পারে যদি বাংলাদেশের ইনিংস অতিরিক্ত লম্বা হয় এবং অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা চতুর্থ ইনিংসে দুই সেশন পার করে দেন।
অস্ট্রেলিয়ার জয় — কম সম্ভাব্য, কিন্তু উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। এই দলটি চতুর্থ ইনিংসে ২৫০-৩০০ তাড়া করার সামর্থ্য রাখে, বিশেষ করে স্মিথ টিকে গেলে। বাংলাদেশের সকালের ধস — ৩৫১/৬ থেকে ৩৭০-এ অলআউট — ম্যাচটি এক ঘণ্টাতেই ঘুরিয়ে দিতে পারে।
শেষ কথা
টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে কঠিন কাজ জেতা ম্যাচ জেতা। বাংলাদেশ এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ছয় টেস্টে জিতেছে একটিতে — ২০১৭ সালে মিরপুরে, ২০ রানে। ডারউইনে সুযোগটি সেটির চেয়েও বড়, কারণ এটি বিদেশের মাটিতে। তৃতীয় দিনের প্রথম ঘণ্টা বলে দেবে, সুযোগটি সুযোগই থাকবে না ইতিহাস হবে।
প্রেক্ষাপট — এর পেছনে যা ঘটেছিল
দ্বিতীয় দিন শেষে: অস্ট্রেলিয়া ১৯৮, বাংলাদেশ ৩৫১/৬ (১১০ ওভার), লিড ১৫৩।
অপরাজিত: মেহেদী হাসান মিরাজ ৩২* (৭৩ বল), হাসান মাহমুদ ১৩* (৭৬ বল)।
সর্বশেষ উইকেট: মুশফিকুর রহিম ৩৬ (৫৫), ক্যাচ স্মিথ, বোলার কামিন্স — ৩০৮/৬।
টস: অস্ট্রেলিয়া, ব্যাটিং নেয়।
