প্রযুক্তি
টাওয়ার ছাড়াই স্যাটেলাইটে মুঠোফোন সেবা চালুর অনুমতি চাইল বাংলালিংক
বিডি সাইট নিউজ ডেস্ক·২১ আগস্ট, ২০২৬·2 মিনিটের পড়া

স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মুঠোফোন যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রতীকী চিত্র
প্রতীকী ছবিছবি: NASA, Public domain — Wikimedia Commonsস্টারলিংকের সঙ্গে অংশীদারত্বে ‘ডিরেক্ট-টু-সেল’ (ডিটুসি) প্রযুক্তিতে বাণিজ্যিকভাবে মুঠোফোন সেবা চালুর অনুমতি চেয়ে বিটিআরসিতে চিঠি দিয়েছে বাংলালিংক।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, চর, দ্বীপ ও সাগরে থাকা মানুষকে মুঠোফোন নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে পরীক্ষামূলকভাবে ডিরেক্ট-টু-সেল সেবা চালিয়েছিল বাংলালিংক। সেই কার্যক্রম সফল দাবি করে এবার স্যাটেলাইটভিত্তিক এই সেবা বাণিজ্যিকভাবে চালুর অনুমতি চেয়েছে অপারেটরটি।
চলতি বছরের এপ্রিলে স্টারলিংকের মাধ্যমে ডিরেক্ট-টু-সেল সেবা পরীক্ষার অনুমতি চেয়েছিল বাংলালিংক। মে মাসে সরকার দুই মাসের প্রুফ অব কনসেপ্ট পরীক্ষার অনুমতি দেয়, যার আওতায় বান্দরবান ও সন্দ্বীপের মতো নেটওয়ার্ক কভারেজের বাইরে থাকা এলাকায় প্রযুক্তিটি পরীক্ষা করা হয়। বিটিআরসি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তাদের সামনে এসএমএস, ওটিটি মেসেজিং ও ওটিটি ভয়েস কলের প্রদর্শনী করা হয়।
এই প্রযুক্তিতে মুঠোফোনের সংকেত সরাসরি স্যাটেলাইটে পৌঁছায়, তারপর তা গ্রাউন্ড স্টেশন হয়ে অপারেটরের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়। আলাদা স্যাটেলাইট ফোন বা বিশেষ যন্ত্র ছাড়াই সাধারণ ফোর-জি মুঠোফোন দিয়েই এই সেবা নেওয়া যাবে বলে বাংলালিংক জানিয়েছে। অনুমোদন পেলে প্রাথমিকভাবে এসএমএস ও লাইট ডেটা সেবা দেওয়া হবে, পরবর্তী সময়ে ভয়েস ও ডেটা সেবা যুক্ত হতে পারে।
বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের চার মোবাইল অপারেটরের মোট গ্রাহক প্রায় ১৯ কোটি, যার মধ্যে প্রায় ১২ কোটি মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। অপারেটরগুলোর নিজস্ব টাওয়ার ২১ হাজার ৩৬৯টি, এর বাইরে সাত হাজারের বেশি টাওয়ার ভাগাভাগি করে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, চর, দ্বীপ, উপকূল ও গভীর সমুদ্রে টাওয়ার স্থাপন কঠিন ও ব্যয়বহুল হওয়ায় সেসব এলাকায় নেটওয়ার্ক পৌঁছায়নি।
বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তৈমুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফলভাবে শেষ করার পর এখন প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে বাংলালিংক। অনুমোদন পেলে বাণিজ্যিকভাবে এই প্রযুক্তি চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।
তবে বাণিজ্যিক অনুমোদনের পথে কিছু নিয়ন্ত্রক জটিলতা রয়েছে। বিটিআরসির এনজিএসও স্যাটেলাইট সার্ভিস নির্দেশিকায় স্যাটেলাইট ও স্থলভিত্তিক আইএমটি সেবা একসঙ্গে দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে, যদিও কমিশনের একটি সূত্র বলছে ডিটুসি প্রযুক্তি নিয়ে ইতিবাচক চিন্তা চলছে। বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী প্রথম আলোকে বলেন, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের প্রতিবেদন এখনো কমিশনের হাতে আসেনি, প্রতিবেদন পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পরীক্ষামূলক অনুমোদনকে বাণিজ্যিক অনুমোদনের নিশ্চয়তা হিসেবে না ধরার শর্তও ছিল বিটিআরসির প্রথম অনুমতিতে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মুঠোফোন সেবার জন্য নির্ধারিত আইএমটি স্পেকট্রাম স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ব্যবহারের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি, ২০২৭ সালের ওয়ার্ল্ড রেডিওকমিউনিকেশন কনফারেন্সে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
এতে সাধারণ মানুষের কী বদলাবে
অনুমোদন পেলে পাহাড়ি দুর্গম এলাকা, চর, দ্বীপ ও উপকূলের বাসিন্দারা, বিশেষ করে সাধারণ ফোর-জি মুঠোফোন ব্যবহারকারীরা, টাওয়ার না থাকা সত্ত্বেও এসএমএস ও সীমিত ডেটা সেবা পেতে পারবেন।
গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে ও অন্যান্য সামুদ্রিক পেশাজীবীরা, যাঁরা এখন স্থলভিত্তিক নেটওয়ার্কের বাইরে থাকেন, তাঁরাও যোগাযোগের সুযোগ পাবেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে টাওয়ার বা ফাইবার নেটওয়ার্ক বিকল হলে এটি বিকল্প যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে।
প্রেক্ষাপট — এর পেছনে যা ঘটেছিল
আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) আওতায় মুঠোফোন সেবার জন্য নির্ধারিত আইএমটি স্পেকট্রাম স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ব্যবহারের বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি, যা ২০২৭ সালের ওয়ার্ল্ড রেডিওকমিউনিকেশন কনফারেন্সে চূড়ান্ত হওয়ার কথা।
সূত্র: প্রথম আলো
