বাংলাদেশ
গঙ্গার নতুন চুক্তিতে ’৭৭ সালের গ্যারান্টি ধারা ফেরানোর দাবি বিশেষজ্ঞদের
বিডি সাইট নিউজ ডেস্ক·১৯ আগস্ট, ২০২৬·2 মিনিটের পড়া

গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নতুন করে সইয়ের আগে ১৯৭৭ সালের চুক্তির গ্যারান্টি ক্লজ পুনরুজ্জীবিত করা এবং তথ্য অধিকার প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীতে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি সামনে রেখে আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এই মত দেন। ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির নতুন মেয়াদ শুরুর আগে ভারতের সঙ্গে দর-কষাকষিতে সক্ষমতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক আইনকে কাজে লাগানোরও পরামর্শ দেওয়া হয় সেখানে।
‘গঙ্গার পানিচুক্তি: পুনঃ আলোচনার বিষয়াবলি’ শীর্ষক সেমিনারটির আয়োজন করে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া)। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
মন্ত্রী জানান, আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে গেলে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরবেন বলে তিনি আশা করেন। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আইনের আশ্রয় নিতেও ঢাকা রাজি আছে।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ১৯৭৭ সালের প্রথম চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ থাকায় বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষিত ছিল, কিন্তু ১৯৮২ থেকে ১৯৮৫ সালের সমঝোতা স্মারকে এবং সবশেষে ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে সেই ধারা বাদ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশ বঞ্চিত হয়েছে। তিনি প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বন্ধুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে বলেন, তবে বাংলাদেশের স্বার্থ ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় আরও বেশি সহযোগিতা প্রয়োজন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি জানান, গঙ্গা অববাহিকার প্রায় ৭০ শতাংশ ভারতের উত্তর প্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশ কাঠামোগতভাবেই একটি নিম্ন-অববাহিকার দেশ। তাঁর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের হিস্যা প্রায় ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ কমেছে এবং ২০০৮-২০১৬ সালের মধ্যে ২৭টি সংকটকালের ১৫ বারই বাংলাদেশ ন্যূনতম পানিপ্রবাহ পায়নি।
আলোচক স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক এম ফিরোজ আহমেদ প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রকৃত পানির চাহিদা পর্যালোচনা করে দাবি তোলার ওপর জোর দেন। বিশেষ অতিথি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ দেশের ৫৪টি নদীর নাব্যতাহীনতার কথা তুলে ধরেন। সমাপনী বক্তব্যে বিলিয়ার চেয়ারম্যান অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন খান নতুন চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ, বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা ও তথ্য জানার অধিকার অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান।
এতে সাধারণ মানুষের কী বদলাবে
গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত হলে শুষ্ক মৌসুমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, খাবার পানি সরবরাহ ও নদীর নাব্যতা রক্ষায় সরাসরি সুফল পেতে পারেন লাখো মানুষ। নতুন চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ না থাকলে অতীতের মতো সংকটকালে ন্যূনতম পানিপ্রবাহ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
প্রেক্ষাপট — এর পেছনে যা ঘটেছিল
১৯৯৬ সালে সইকৃত বর্তমান গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর, যা আগামী মাসগুলোতে নতুন করে সইয়ের বিষয়টি সামনে আসায় এই সেমিনার আয়োজন করা হয়। ১৯৭৭ সালের প্রথম চুক্তিতে থাকা গ্যারান্টি ক্লজ পরবর্তী সমঝোতা স্মারক ও ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে বাদ পড়ে যায় বলে সেমিনারে জানানো হয়।

