বিদেশে পড়াশোনা
আইইএলটিএসে ৬ স্কোর আর ৭০ শতাংশ স্কলারশিপে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন বাংলাদেশের এক শিক্ষার্থী
বিডি সাইট নিউজ ডেস্ক·২০ আগস্ট, ২০২৬·2 মিনিটের পড়া

ব্যক্তিগত কারণে পড়াশোনায় বিরতি পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব দ্য পিপলে ৭০ শতাংশ স্কলারশিপ নিয়ে বাংলাদেশে বসেই ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক করছেন এক শিক্ষার্থী।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যক্তিগত কারণে পড়াশোনায় বিরতি পড়ার পর ওই শিক্ষার্থী এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজছিলেন, যেখানে বাংলাদেশে থেকেই আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নেওয়া সম্ভব এবং খরচও সাধ্যের মধ্যে থাকে। এই খোঁজেই তিনি জানতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের পাসাদেনায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব দ্য পিপল সম্পর্কে, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা অনলাইনে যুক্ত হয়ে পড়াশোনার সুযোগ পান।
প্রয়োজনীয় একাডেমিক কাগজপত্র, আইইএলটিএস স্কোর ও অন্যান্য নথি জমা দিয়ে তিনি আবেদন করেন এবং বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ পান। ভর্তির জন্য তাঁর আইইএলটিএস স্কোর ছিল ৬, পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন ও নেতৃত্ববিষয়ক কার্যক্রমের অভিজ্ঞতাসংক্রান্ত সনদও জমা দিতে হয়েছে তাঁকে।
তাঁর মতে, বাংলাদেশে থেকেই আন্তর্জাতিক একাডেমিক পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়াই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা। ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে নির্দিষ্ট ক্লাস সূচি মেনে চলা কঠিন হতো, কিন্তু ফ্লেক্সিবল অনলাইন পদ্ধতির কারণে পেশাদার দায়িত্ব ও পড়াশোনা একসঙ্গে চালিয়ে যেতে পারছেন তিনি।
অর্থনৈতিক দিক থেকে সবচেয়ে বড় সহায়তা এসেছে ৭০ শতাংশ স্কলারশিপ থেকে, যা ভর্তির সময় আবেদনের ভিত্তিতে অনুমোদিত হয়। তবে অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থায় নিজের দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হয় বলে জানান তিনি, আর শুরুর দিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ই-মেইলে যোগাযোগ ও জবাব পেতে সময় লাগাটা চ্যালেঞ্জিং ছিল।
পরীক্ষাব্যবস্থাও বেশ কড়াকড়িভাবে পরিচালিত হয় বলে জানিয়েছেন তিনি। ফাউন্ডেশন কোর্স শেষে প্রক্টরের সামনে বসে পরীক্ষা দিতে হয়েছে, যেখানে টেবিলে ল্যাপটপ ও ওয়েবক্যাম ছাড়া কিছু রাখার অনুমতি নেই এবং সাময়িকভাবে ল্যাপটপ স্ক্রিনের নিয়ন্ত্রণও নিয়ে নেওয়া হয়। প্রথম টার্মে একটি কোর্সে ১০০-এর মধ্যে ৯২ এবং আরেকটিতে ৮০ পেয়েছেন তিনি, আর ফাউন্ডেশন পরীক্ষায় পেয়েছেন ৮১.৫৬ শতাংশ নম্বর, যা বি গ্রেডের সমান।
তিনি জানান, ভালোভাবে পাস করতে পারলে বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা বা ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুযোগ পাওয়া যায়, এমনকি ভালো একাডেমিক প্রোফাইল থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির মতো দেশে চাকরির সম্ভাবনাও তৈরি হয়। ৩৬ ক্রেডিট সম্পন্ন হলে ক্রেডিট ট্রান্সফারের সম্ভাবনা খুঁজে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর, যাতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশের উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা নেওয়া যায়।
এতে সাধারণ মানুষের কী বদলাবে
যাঁরা কর্মজীবন বা ব্যবসার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের ডিগ্রি নিতে চান, তাঁদের জন্য এই ধরনের অনলাইন বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে বসেই পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার একটি বাস্তব বিকল্প হতে পারে। আইইএলটিএস স্কোর ও স্কলারশিপের সুযোগ থাকায় খরচ তুলনামূলক কম রাখা সম্ভব।

